প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাণী

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

ব্রিটিশ শাসনামলে এ দেশে জেলা পর্যায়ে সর্বপ্রথম ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ সালে ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ড নামে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়। ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় সেই ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড আজকের জেলা পরিষদ। এক সময় জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হতো জেলা পরিষদের মাধ্যমে। পরবর্তীতে সময়ে সময়ে বেশ কয়েকটি ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট সৃষ্টি হওয়ায় জেলা পরিষদের কার্যক্রম কিছুটা সংকুচিত হয়। তবে সাবেক মহকুমাগুলো জেলায় রূপান্তরের পর সীমিত আয়ের মধ্যে থেকেই জেলা পরিষদ সার্বিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনহিতকর কাজ অব্যাহত রাখার জন্য । রাজবাড়ী জেলা পরিষদ বর্তমানে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজকল্যাণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সাহায্য প্রদান, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ ও গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, শীতবস্ত্র বিতরণ, পরিবেশ উন্নয়নে বৃক্ষরোপন কার্যক্রম, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ এবং দারিদ্র্য বিমোচন ও নারী   উন্নয়নে গুরত্ব¡পূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এ ছাড়া অসহায় দরিদ্র এবং অসুস্থ মানুষদের আর্থিক সাহায্যের মাধ্যমে জেলা পরিষদ তাদের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে। রাজবাড়ী জেলা পরিষদের বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে জেলার বিভিন্ন ডাকবাংলো নির্মাণ ও পরিচালনা, স্মৃতিস্মম্ভ নির্মাণ, রাস্তাাঘাট নির্মাণ, যাত্রী ছাউনি নির্মাণ, মসজিদ-মন্দির তথা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, পাঠাগার ও ক্লাবঘরের উন্নয়ন ও সংস্কার ইত্যাদি।

বিগত ১৯৮৮ সালে রাজবাড়ী জেলা পরিষদ গঠিত হয়। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অপ্রতুল অবকাঠামোর কারণে ‘পদ্মা কণ্যা’ খ্যাত রাজবাড়ী জেলার সিংহভাগ জনগণকে নানাবিধ সমস্যা ও সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। এ বিষয়টি বিবেচনা করে রাজবাড়ী জেলা পরিষদ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন দুর্যোগ আক্রান্ত সাধারণ মানুষের উপকারার্থে নানা জনহিতকর কাজ বাস্তবায়ন করে আসছে। বহুমুখী উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে জেলা পরিষদ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এতে জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটছে।

বর্তমান সরকারের যুগান্তকরী সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পরিষদ আইন ২০০০ এর আলোকে গত ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ সালের শেষ ভাগে এক জন চেয়ারম্যান, পনেরো জন সদস্য এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য পাঁচ জন মহিলা সদস্য সমন্বয়ে মোট একুশ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচিত পরিষদ গঠিত হয়। নতুন পরিষদ ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ সালের জানুয়ারী মাসে দায়িত্বভার গ্রহণ করে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের পথে জেলা পরিষদ নির্বাচন একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। নির্বাচিত পরিষদ তার সীমিত সম্পদ ও জনবল দিয়ে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ছোটো-বড়ো শত শত প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরিক্রমা প্রকাশ করে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণে সম্পাদকসহ অন্যান্য কর্মচারীগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। এ জন্য তাঁদেরকে জানাই অশেষ ধন্যবাদ।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণ ও নাগরিক সম্পৃক্ততা অর্জনের লক্ষ্যে এ প্রতিবেদন করদাতা নাগরিকগণের সাথে জেলা পরিষদের সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করবে। পরিষদের কর্মকান্ড আরও গতিশীল ও উন্নয়নমুখী করার জন্য যে কোনো মতামত, পরামর্শ অথবা যুক্তিসংগত সমালোচনাকে স্বাগত জানানো হবে । 

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম