উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ

জেলা পরিষদের মালিকানাধীন পুকুর, দিঘি, জলাশয়সমূহ পুনঃখনন/সংস্কার প্রকল্প

ডস্ট্রিক্ট বোর্ডগুলো এ ভূখন্ডে যখন যাত্রা শুরু করে তখন পানীয় জল ব্যবহারের আধুনিক সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান ছিল না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুকুর খনন করে সাধারণ মানুষের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড। কালের পরিক্রমায় এ পুকুরগুলো আর পানীয় জলের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। বেশ কিছু পুকুর হাজামাজা হয়ে যায়। কিছু কিছু পুকুর আংশিক বা পুর্ণাঙ্গ ভরাট হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২৬.০৮.২০১৫ তারিখের ২৪৬ নং স্মারকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমগ্র দেশে পুকুর/দিঘি/খাল পুনঃখনন করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তদপ্রেক্ষিতে জেলা পরিষদসমূহ হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পরিষদের পুকুর, দিঘি, জলাশয়সমূহ পুনঃখনন করে সংলগ্ন এলাকায় পানি সরবরাহের বিষয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য যে, জেলা পরিষদের অধীন ৯৫২টি পুকুর, দিঘি, জলাশয়ের মালিকানা নিষ্কণ্টক হিসেবে বিবেচিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের ০৫.১০.২০১৫ তারিখের ৩৮০৮ নং স্মারকে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন পুকুর, দিঘি ও খাল নতুনভাবে ইজারা না দেয়া এবং ইজারা শেষে তা নবায়ন না করার জন্য জেলা প্রশাসক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাগণকে পত্র দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, নির্বাচিত পুকুরসমূহ উন্নয়নের লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক “পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ” শীর্ষক প্রকল্প গৃহীত হয়, যার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। পরবর্তীতে পানি সংরক্ষণ ও নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে “জেলা পরিষদের পুকুর/দিঘি/ জলাশয়সমূহ পুন:খনন/সংস্কার” শীর্ষক প্রকল্পটি ২৩.০৮.২০১৬ খ্রিঃ তারিখে অনুমোদিত হয়।

প্রকল্প দু’টির মাধ্যমে জেলা পরিষদের আওতাধীন যথাক্রমে ১৪৩টি এবং ৮০৯ টি পুকুর, দিঘি, খাল, জলাশয় পুনঃখনন করে পানির উৎস হিসেবে খাওয়া ও গৃহস্থালী কার্যে ব্যবহারের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। জেলা পরিষদের মালিকানাধীন এ সকল পুকুরের মালিকানা অক্ষুন্ন রেখে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক পুনঃখনন/সংস্কার করে এর চারপাশে পাড় নির্মাণ, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং গাছ লাগানো হবে। পরবর্তীতে নিরাপদ পানির উৎস হিসেবে এগুলোতে পিএসএফ/পিএসটি/পন্ড ওয়াটার ফিল্ট্রেশন সিস্টেম স্থাপন করা হবে। জেলা পরিষদের মালিকানাধীন এসব পুকুর, দিঘি, খাল, জলাশয়সমূহ পুনঃখনন/সংস্কারের জন্য একটি বাস্তবায়ন নীতিমালা অনুমোদন করা হয়। বাস্তবায়ন নীতিমালা অনুযায়ী সার্বিক কাজে সহায়তা, তদারকি এবং ব্যবস্থাপনার জন্য নিম্নরূপ ভাবে জেলা প্রকল্প উপদেষ্টা কমিটি এবং ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জেলা প্রকল্প উপদেষ্টা কমিটি

১. প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ – সভাপতি
২. উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার – সদস্য
৩. সচিব, জেলা পরিষদ – সদস্য
৪. সহকারী প্রকৌশলী, জেলা পরিষদ – সদস্য
৫. নির্বাহী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর – সদস্য সচিব

জেলা প্রকল্প উপদেষ্টা কমিটির কার্যপরিধিঃ

  • পুকুর খনন ও পুনঃখননের সংক্রান্ত কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান।
  • পুকুর পুনঃখননের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অবস্থা তদারিক ও পর্যালোচনা এবং সমস্যা সমাধানে সুপারিশ প্রদান।
  • পুকুর পুনঃখননের প্রত্যয়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে পুকুরটি জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তর এবং এর যথাযথ পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিতকল্পে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন।
  • জেলা প্রকল্প উপদেষ্টা কমিটি প্রতি দুই বছর পর পর ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন করবে।

পুকুর ও ফিল্টার ইউনিট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জেলা প্রকল্প উপদেষ্টা কমিটি নিম্নরূপভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করবেঃ

১। সংশ্লিষ্ট ইউ.পি. ওয়ার্ড সদস্য/সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য -সভাপতি
২। নিকটবর্তী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক – সদস্য
৩। সুবিধাভোগীদের প্রতিনিধি (মহিলা) – সদস্য
৪। সুবিধাভোগীদের প্রতিনিধি (পুরুষ) – সদস্য
৫। প্রতিনিধি, জেলা পরিষদ – সদস্য সচিব

জেলা প্রকল্প উপদেষ্টা কমিটির কার্যপরিধিঃ

  • বহিঃদূষণ হতে পুকুর রক্ষা করণ।
  • ভবিষ্যতে ক্ষতির হাত হতে রক্ষা করে পুকুরের পাড় ও বেড়া মেরামতকরণ।
  • পুকুরের গভীরতা বজায় রাখার স্বার্থে সময় সময় পুুকুরের কাদা অপসারণ।
  • পিএসএফ এবং অন্যান্য ফিল্টার ইউনিট এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ।
  • পানির গুণগত মান পরীক্ষার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে সহায়তা প্রদান।

বর্ণিত প্রকল্প দুইটির কার্যক্রম চালু করার জন্য জেলা পরিষদের মালিকানাধীন পুকুর, দিঘি, খাল, জলাশয়সমূহ পুনঃখনন কাজের বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে কাজ করার অনুমতি প্রদানসহ জেলা নিম্নোক্ত সহযোগিতা করবেঃ

ক) পুকুরের সংস্কার/উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের জন্য নির্বাচিত পুকুরসমূহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিকট সাময়িকভাবে হস্তান্তর করণ।
খ) পুকুর/জলাশয়সমূহের প্রিওয়ার্ক ও পোস্টওয়ার্ক মেজারমেন্ট (Measurement) গ্রহণের সময় জেলা পরিষদ হতে সার্বক্ষণিক একজন কারিগরি প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ।
গ) কাজ শুরুর সময় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণকে পুকুর/জলাশয়সমূহের সীমানা সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া এবং সীমান সংক্রান্ত জটিলতা (যদি থাকে) দ্রুত নিষ্পত্তি করণ।
ঘ) পুকুর/জলাশয়ে কোন অবৈধ দখল থাকলে তা উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহণ।
ঙ) পুকুরের পানি দূষিত হয় এমন কোন গাছ পুকুর পাড়ে থাকলে দ্রুত তা অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ।
চ) পুকুর পুনঃখনন শেষে সম্পাাদিত কাজ অর্থাৎ পুনঃখননকৃত পুকুরটি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক হস্তান্তর।
ছ) প্রয়োজন অনুযায়ী পুকুর পুনঃখনন সংক্রান্ত অগ্রগতির পর্যালোচনা সভা আয়োজন এবং দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের অন্তরায়সমূহ চিহ্নিত করে সমাধান করণ।
জ) পুকুরের পাড়ে খননকৃত সমুদয় মাটি রাখার সংকুলান না হলে মাটি ফেলার জন্য পুকুরের সন্নিকটে স্থান নির্ধারণ।

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের পুকুর খনন/সংস্কারের উদ্যোগ

এতদুদ্দেশ্যে পরবর্তী পৃষ্ঠায় বর্ণিত রাজবাড়ী জেলা পরিষদের মালিকানাধীন পুকুরসমূহ সাময়িকভাবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার ইতোমধ্যেই বর্ণিত পুকুরসমূহের উন্নয়নের কাজ শুরু করেছেন। প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণ নিরাপদ পানি ব্যবহারের অবাধ সুযোগ পাবেন। অধিকন্তু, সারফেস ওয়াটার সংরক্ষণের সুবিধা সৃষ্টি হওয়ায় আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেলের উপর চাপ কমে আসবে। এতে এলাকার পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত হবে। জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বাকী পুকুরগুলোও পর্যায়ক্রমে খনন ও সংস্কার প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

জেলা পরিষদের বহুমুখী কার্যক্রমের আলোকচিত্র